কলকাতায় সনাতন সেবা ন্যাসের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন: বাংলায় ২১ লক্ষ হনুমান চালিসা পাঠ ও সাংস্কৃতিক পুনরুথানের ডাক

Kolkata West Bengal

কলকাতা:পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হলো সনাতন সেবা ন্যাস-এর নতুন কার্যালয়। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস কনফারেন্সে সংগঠনের সভাপতি শিব ওম মিশ্র বাংলার সংস্কৃতি, ধর্মান্তর রোধ, এবং আগামী দিনের বিশাল কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

৫০ বছরের আদর্শগত ও সাংস্কৃতিক প্রভাব থেকে মুক্তির সংকল্প

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয় যে, গত ৫০ বছর ধরে বাংলার যে ভূমি বিভিন্ন নেতিবাচক চিন্তা ও আদর্শের প্রভাবে দূষিত হয়েছিল, তা থেকে ৬ মাস আগে মুক্তি মিলেছে। এখন এই বাংলাকে পুনরায় সনাতন সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং ভারতের শাশ্বত নৈতিক মূল্যবোধের সাথে যুক্ত করতে দেশের সাধু-সন্তু, অखाড়া পরিষদ এবং আদি শঙ্করাচার্যের পরম্পরা একযোগে এগিয়ে আসছে।

২১ লক্ষ হনুমান চালিসা পাঠের ঐতিহাসিক মহাযজ্ঞ

বাংলার তরুণ প্রজন্ম ও যুবসমাজকে ধর্ম ও সংস্কৃতির সাথে দৃঢ়ভাবে বাঁধার জন্য এক বিরাট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাংলার পবিত্র মাটিতে ১ লক্ষ সनातনী পরিবার একত্রিত হয়ে ২১টি করে হনুমান চালিসা পাঠ করবে। এর মাধ্যমে মোট ২১ লক্ষ হনুমান চালিসা পাঠ সম্পন্ন হবে এবং বাংলার মাটিতে হনুমানজির শক্তির জাগরণ ঘটানোর প্রচেষ্টা চালানো হবে।

সাংগঠনিক বিস্তার ও কর্মসূচি

  • প্রথম ধাপের জেলাসমূহ: এই অভিযানের সূচনা ইতোমধ্যে কলকাতা, উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, হাওড়া, हुगली, আরামবাগ এবং মেদিনীপুর জেলা থেকে শুরু হয়েছে।
  • শাখা ও শাখা সম্প্রসারণ: আগামী ৩ মাসের মধ্যে ১৫০টিরও বেশি শাখা তৈরি করা হবে, যেখানে প্রতি শনিবার হাজার হাজার সनातনী একত্রিত হয়ে সম্মিলিতভাবে হনুমান চালিসা পাঠ করবেন। আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলার সমস্ত জেলায় এই নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
  • বাড়ি বাড়ি আমন্ত্রণ: কর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে হলুদ ও চাল নিয়ে সনাতনী পরিবারগুলোকে এই মহাসামूहिक অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাবেন।
  • ২৯ ডিসেম্বর ব্রিগেড প্রস্তুতি: আগামী ২৯ ডিসেম্বরের ব্রিগেড গীতা পাঠের প্রস্তুতি এবং সাধু-সন্ত ও মঠ-মন্দিরের সাথে সমন্বয় রেখে পুরো কার্যক্রম সাজানো হয়েছে।

ধর্মান্তর ও ‘লভ জিহাদ’ বিরোধী কঠোর অবস্থান

ধর্মান্তরকরণ এবং ‘লভ জিহাদ’কে দেশের অন্যতম প্রধান দূষণ হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনটি জানিয়েছে যে, আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সनातনী সমাজকে সচেতন, সংঘবদ্ধ এবং ভয়মুক্ত করে নিজেদের সংস্কৃতি ও পরিবারকে সুরক্ষিত করার ওপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ এবং জল সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কাজের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সুরক্ষা, প্রকৃতি রক্ষা এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ও পুকুর সংরক্ষণের কাজকে সংগঠনের অন্যতম মৌলিক অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে। “সর্ব ভবन्तु सुखिनः” এর ভাবনাকে সামনে রেখে বিশ্বকল্যাণের লক্ষ্যে এই পথচলা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *