প্রফেসর বিশ্বনাথ ডি করদকে অ্যাওয়ার্ড অব এক্সেলেন্স দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস MIT-WPU সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে

Education National West Bengal


মুম্বাই/পুনে :
শিক্ষা ও বিশ্বশান্তিতে আজীবন অবদানের জন্য MIT ওয়ার্ল্ড পিস ইউনিভার্সিটির (MIT-WPU) প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি প্রফেসর বিশ্বনাথ ডি করদকে অ্যাওয়ার্ড অব এক্সেলেন্স দিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।

পুনেয় MIT-WPUর সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আনন্দ বোস বলেন, ‘প্রতিটি মহৎ অর্জন শুরু হয় একটি দূরদৃষ্টির মধ্য দিয়ে যা কর্মে রূপান্তরিত হয়। দূরদৃষ্টি ছাড়া কাজের কোনও অর্থ নেই, এবং দূরদৃষ্টি ছাড়া কাজে হিতে বিপরীত হতে পারে।

শিক্ষার শক্তিকে ‘বন্ধনমুক্তি, অধিকার প্রদান ও সমৃদ্ধি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, এইসঙ্গে পড়ুয়াদের আহ্বান করেন জীবনব্যাপী শিক্ষা নিতে এবং জ্ঞানকে সমাজ রূপান্তরের কাজে ব্যবহার করতে।

MIT ওয়ার্ল্ড পিস ইউনিভার্সিটির (MIT-WPU) সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ডিপ্লোমা, স্নাতক স্তর ও স্নাতকোত্তর স্তরের বিভিন্ন বিভাগে মোট 6,837 পড়ুয়াকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। অসাধারণ পড়ুয়াদের প্রদান করা হয় 114 সোনা, 103 রুপো ও 103 ব্রোঞ্জক পদক আর 37 রিসার্চ স্কলার গবেষণায় উৎকর্ষের জন্য পেয়েছেন পিএইচডি ডিগ্রি। ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট মেডেল ও একজিকিউটিভ প্রেসিডেন্টস মেডেল পান যথাক্রমে শ্বেতা রাজশ্রী আয়ার ও গুণেশ পাটকর, তাঁদের উদাহরণমূলক বিদ্যায়তনিক অর্জনের জন্য।

MIT-WPU প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি প্রফেসর বিশ্বনাথ ডি করদকে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা বলে অভিহিত করেন রাজ্যপাল আনন্দ বোস। এমন একজন যিনি ভাবনাকে বাস্তবে পরিণত করেছেন প্রতিজ্ঞাবদ্ধতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে। তিনি বলেন, ‘এই দুর্দান্ত স্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে কীভাবে কাজের সঙ্গে মিশে দূরদৃষ্টি সফল হয় তার উদাহরণ হয়ে। ড. করদের জীবন ও কর্মে মিশেছে শিক্ষা, শান্তি ও মানবিক মূল্য যা প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে MIT ওয়ার্ল্ড পিস ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি প্রফেসর বিশ্বনাথ ডি করদ বলেন, ‘এই সমাবর্তন শুধু একটি বিদ্যায়তনিক মাইলফলক নয়, বরং এটা শান্তি ও ঐক্যের প্রতি আমাদের লক্ষ্যের প্রতিফলন। অনিশ্চিত ও নৈরাজ্যের এই পৃথিবীতে সত্যিকারের শিক্ষা বিজ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা, দর্শনকে একত্রিত করে মন ও হৃদয়কে আলোকিত করে। এই মেলবন্ধনের মধ্য দিয়েই পৃথিবী উপলব্ধি, আত্মসমীক্ষা ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি পেতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি প্রফেসর রামচরণ সমাবর্তনে পডুয়াদের প্রচুর সংখ্যায় উপস্থিতি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকের দিনে তোমাদের সত্যিকারের যাত্রার সূচনা হল। তোমাদের শিক্ষকরা এতদূর পর্যন্ত পথ দেখিয়েছেন, এখন গোটা বিশ্ব তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিদিন তোমাদের মনকে সম্প্রসারিত করো, মনের সত্যিকারের ডাক আবিষ্কার করো, শিখতে থাকো, সম্পর্ক গড়ো, অর্জন করো আস্থা, মৌলিক বিষয়ের ওস্তাদ হয়ে ওঠো। সাফল্য তার কাছেই ধরা দেয় যে নিজের মন, চরিত্র ও দক্ষতার মিশেল ঘটাতে পারে, বাকিটা তোমাদের ওপর।

MIT-WPUর এগজিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট রাহুল ভি করদ উপস্থিত পড়ুয়া, অভিভাবক ও সম্মাননীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘MIT-WPUর সব স্নাতক, সোনাজয়ী ও পুরস্কারজয়ীদের অভিনন্দন জানাই। আজ তোমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধতা, কঠোর পরিশ্রম ও অর্জনের উদযাপন। আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি মাননীয় রাজ্যপাল, আমাদের আচার্য, ফ্যাকাল্টি ও অভিভাবকদের, তাঁদের পরামর্শ ও উৎসাহের জন্য। এই সংস্থা প্রফেসর বিশ্বনাথ ডি করদের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পরামর্শে শুধু পড়ুয়াদের জ্ঞানের মাধ্যমেই শক্তিশালী করেনি, বরং এইসঙ্গে মূল্যেবাধ, জটিল চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের মন তৈরি করে দিয়েছে। তোমরা নতুন পথে অগ্রসর হলে এই শিক্ষা বহন করো এবং তোমাদের শিক্ষাকে কাজে লাগাও সমাজে অর্থপূর্ণ অবদান জোগানোয়, শান্তি প্রসার করো এবং আরও সুন্দর পৃথিবী গড়ো তোলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *