চিত্রকূট আর্ট গ্যালারিতে দুর্গাপুজোকে ঘিরে বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী

Business Kolkata West Bengal

কলকাতা : বাংলার প্রবাদ— “বারো মাসে তেরো পার্বণ”। সেই সমস্ত পার্বণের মধ্যে সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে প্রাণের উৎসব নিঃসন্দেহে দুর্গাপুজো। প্রতিবারের মতো এবারও শহরজুড়ে প্যান্ডেল হপিংয়ের উন্মাদনা চলবে, তবে এ বছর কলকাতার শিল্পরসিকদের জন্য থাকছে এক ভিন্ন মাত্রার আয়োজন। মা দুর্গার ঐশ্বরিক যাত্রাকে কেন্দ্র করে এক অনন্য চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করেছে চিত্রকূট আর্ট গ্যালারি

গ্যালারির কর্ণধার প্রভাস কেজরিওয়াল এবং চারুলতার কর্ণধার আশাতীত হালদারের উদ্যোগে এই বিশেষ প্রদর্শনীতে উঠে আসবে দুর্গার নানান রূপ। শুধু সমসাময়িক শিল্পীর কাজ নয়, সঙ্গে থাকছে বাংলার চিত্রকলার ঐতিহ্যও— আর্লি বেঙ্গল স্কুল, কালীঘাটের পটশিল্প এবং কিংবদন্তি শিল্পী নন্দলাল বসু, যামিনী রায়গণেশ পাইনের কালজয়ী সৃষ্টিকর্ম।

প্রদর্শনীটি শুরু হবে ২০শে সেপ্টেম্বর এবং চলবে ২০শে অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিল্পপ্রেমীরা দেখতে পাবেন এই অনন্য শিল্পাভিযাত্রা।

দেবীপক্ষ ও পুজোর সূত্রপাত

আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষকে বলা হয় “দেবীপক্ষ”। মহালয়া থেকেই দেবীপক্ষের সূচনা হয়। এই দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তর্পণ করে তাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দেবীপক্ষের শেষ দিনটি হল কোজাগরী পূর্ণিমা, যেদিন দেবী লক্ষ্মীর পূজা পালিত হয়।

প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কোথাও কোথাও পনেরো দিন ধরে দুর্গাপুজো পালিত হয়। এই ক্ষেত্রে মহালয়ার আগের নবমী তিথি থেকেই পূজার সূচনা হয়। কালিকা পুরাণে উল্লেখ রয়েছে—

  • অষ্টাদশভুজা মহিষাসুরমর্দিনী উগ্রচণ্ডার বোধন হয় কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথিতে।
  • ষোড়শভুজা ভদ্রকালীর বোধন হয় কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে।
  • চতুর্ভুজা ও দশভুজা মহিষাসুরমর্দিনীর বোধন হয় যথাক্রমে শুক্ল প্রতিপদে ও শুক্ল ষষ্ঠীতে।

অন্যদিকে মহাকাল সংহিতায় বলা হয়েছে, প্রতিমার রূপভেদ অনুযায়ী পূজার সময়ও ভিন্ন হতে পারে—

  • উগ্রচণ্ডার পূজা কৃষ্ণপক্ষ নবমী থেকে,
  • ভদ্রকালীর পূজা প্রতিপদ থেকে,
  • কাত্যায়নী দুর্গার পূজা ষষ্ঠী থেকে শুরু করার বিধান রয়েছে।

শিল্পে উৎসবের প্রতিফলন

দুর্গোৎসব শুধু ভক্তির নয়, শিল্প ও সংস্কৃতির এক বিশাল মেলবন্ধন। শহরের প্রতিটি কোণায় কোণায় শিল্পের ছোঁয়া লাগে, প্রতিটি মণ্ডপ যেন রূপ নেয় এক একটি আর্ট ইনস্টলেশনে। সেই প্রেক্ষিতেই চিত্রকূট আর্ট গ্যালারির এই প্রদর্শনীকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিল্পমহল। এখানে একদিকে যেমন থাকবে ঐতিহ্যবাহী শিল্পরীতি, অন্যদিকে সমসাময়িক শিল্পীদের ক্যানভাসে ধরা পড়বে দেবী দুর্গার বহুমাত্রিক প্রতিচ্ছবি।

শিল্পানুরাগীরা আশা করছেন, দুর্গাপুজোর উৎসবমুখর পরিবেশে এই প্রদর্শনী শহরের সাংস্কৃতিক আবহে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *