‘ঈশ্বর যখন মানুষ’— এক অনন্য স্বাস্থ্যবিষয়ক গ্রন্থের প্রকাশ

Latest news

কলকাতা :আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় আজ প্রকাশিত হল এক ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী স্বাস্থ্যবিষয়ক গ্রন্থ— ‘ঈশ্বর যখন মানুষ’। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৩০ জন স্বনামধন্য চিকিৎসকের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির সংকলনে প্রকাশিত এই বইটি এনেছে সাহিত্যম প্রকাশনী

বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্যের অভাব নেই, কিন্তু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ক্ষেত্রে যাচাই না-করা তথ্যের উপর নির্ভর করা অনেক সময়ই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকেরা সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, দুশ্চিন্তা ও প্রয়োজনকে সামনে রেখে এই গ্রন্থে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। সঠিক তথ্যই যে সুস্থ থাকার প্রথম শর্ত—এই বার্তাই বহন করে ‘ঈশ্বর যখন মানুষ’।

এই বই কেবল চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতার সংকলন নয়; এখানে রয়েছে রোগ-নিরাময়ের পথে মানুষের যন্ত্রণা, আশা, লড়াই ও বাস্তব জীবনের নানা গল্প। রোগমুক্তির লড়াইয়ে যখন চিকিৎসকেরা নিজেদের বিলিয়ে দেন, তখন তাঁদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে মানুষের অসহায়তা, মানসিক শক্তি, হার না মানা মনোভাব এবং অনেক সময় হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা। রোগ ও মৃত্যুর সীমান্তে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকেরা যে রূপে ঈশ্বরকে অনুভব করেন, আর সাধারণ মানুষ চিকিৎসকদের মধ্যেই যে ঈশ্বরের আশ্রয় খুঁজে পান—এই দ্বিমুখী অনুভবই গ্রন্থটির মূল সুর।

কলকাতা-সহ সারা দেশ থেকে আগত ৩০ জন বিশিষ্ট চিকিৎসক এই গ্রন্থে ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন। সাধারণ রোগে কী করণীয় ও কী করণীয় নয়, জটিল রোগ মোকাবিলায় মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা—এইসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বইটির পাতায়।
মস্তিষ্কের জটিলতা ও টিউমার সার্জারির চ্যালেঞ্জ, টিউবারকিউলোসিস, অ্যালার্জি, কিডনি রোগ ও ট্রান্সপ্ল্যান্ট, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, ক্যানসার থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন নিউরোলজিক্যাল অসুখ, শিশুস্বাস্থ্য থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ রোগ—বহু বিষয়েই রয়েছে তথ্যভিত্তিক ও অভিজ্ঞতালব্ধ লেখা।

প্রেসক্রিপশনের গণ্ডি পেরিয়ে এই বইয়ের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা পৌঁছে যেতে চান সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে। বিপদের সময়ে বইয়ের পাতা উল্টালেই পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় দিশা—তাৎক্ষণিকভাবে কী করা উচিত, সে বিষয়ে মিলবে নির্ভরযোগ্য ধারণা।

বইটির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেলঘরিয়া রামকৃষ্ণ মিশন শিল্পপীঠের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্যানানন্দ মহারাজ, সাহিত্যিক-সাংবাদিক রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিশিষ্ট চিকিৎসক।
প্রবীণ চিকিৎসক ডা. সুকুমার মুখার্জি বলেন,
“আমার লেখা বই আগেও প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু একসঙ্গে ৩০ জন চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার সংকলনে এমন বই এই প্রথম। প্রকাশকের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমার লেখায় আমি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও থাইরয়েড নিয়েও কীভাবে সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব, তা বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস, এই বই বাঙালির ঘরে ঘরে সুস্থতার বার্তা পৌঁছে দেবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেডিওলজিস্ট ডা. সায়ন পাল। তিনি বলেন,
“ক্যানসার শব্দটি শুনলেই মানুষের মনে গভীর ভয় কাজ করে, অনেক সময় মানসিক শক্তি ভেঙে পড়ে। এমন একটি বই হাতের কাছে থাকলে ভরসা পাওয়া যায়। সমাজের পাশে থাকার জন্য এতজন চিকিৎসকের এই সম্মিলিত প্রয়াস কখনও ব্যর্থ হবে না। বইটি মানুষের শরীর ও মনের প্রকৃত বন্ধু হয়ে উঠবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *