নবদ্বীপ : ফাল্গুনের শেষপ্রহরে যখন বাংলাজুড়ে দোলের রঙের উচ্ছ্বাস, তখন গঙ্গাতীরবর্তী নবদ্বীপে ভক্তিময় পরিবেশে পালিত হলো Chaitanya Mahaprabhu-এর আবির্ভাব মহোৎসব। Gaudiya Math-এ আয়োজিত এই উৎসব ঘিরে ভোর থেকেই শুরু হয় মঙ্গলআরতি, শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টানাদ এবং হরিনাম সংকীর্তন।
ফুল, আলোকসজ্জা এবং বৈষ্ণব পতাকায় সজ্জিত হয়ে ওঠে সমগ্র আশ্রম প্রাঙ্গণ। সাদা বা গেরুয়া বস্ত্র পরিহিত ভক্তরা কপালে তিলক এঁকে হাতে জপমালা নিয়ে নামজপ ও কীর্তনে অংশ নেন। এদিন মহাপ্রভুর মহা অভিষেক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়, যা ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ছিল গভীর আধ্যাত্মিক উচ্ছ্বাস।
শুধু নদীয়া জেলা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকেও অসংখ্য ভক্ত নবদ্বীপে উপস্থিত হন এই মহোৎসবে। সন্ধ্যায় আয়োজিত প্রদীপ যাত্রা অনুষ্ঠানে শত শত ভক্ত অংশ নেন, যা পুরো এলাকা ভক্তিময় আবহে ভরিয়ে তোলে।
গৌড়ীয় মিশনের আচার্য ও সভাপতি Bhakti Sundar Sanyasi Maharaj জানান, আজ থেকে প্রায় ৫৪০ বছর আগে চন্দ্রগ্রহণের দিন মহাপ্রভুর আবির্ভাব হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে এবছরও চন্দ্রগ্রহণের দিন বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি পালন করা হয়।
তিনি আরও জানান, মহাপ্রভুর ৫৪০তম আবির্ভাব বর্ষ উপলক্ষে ৫৪০টি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। লাল-সাদা বস্ত্র পরিহিত শিশু, যুবক ও মহিলারা শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মাধ্যমে পরিবেশকে আরও পবিত্র ও আনন্দমুখর করে তোলেন। “হরিবোল” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী মহারাজ বলেন, বর্তমান বিশ্বে যখন বিভাজন, হিংসা ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, তখন শ্রীচৈতন্যের প্রেম, ভক্তি ও ঐক্যের বার্তা মানবসমাজের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
