কলকাতা : ধূপকাঠি, সিঁদুর-সহ বিভিন্ন নিত্যব্যবহার্য ধর্মীয় সামগ্রীর মোড়কে দেবদেবীর ছবি ব্যবহার এবং ব্যবহারের পর সেই মোড়ক নর্দমা, ডাস্টবিন ও আবর্জনার স্তূপে পড়ে থাকার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করল সনাতনী সমাজ।
সনাতনী সমাজের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের মোড়কে দেবদেবীর ছবি ব্যবহারের ফলে অনিচ্ছাকৃত হলেও আরাধ্য দেবতার চরম অবমাননা হচ্ছে। দেবদেবীর স্থান কখনোই নোংরা পরিবেশে, রাস্তার ময়লায় বা নর্দমার পাশে হতে পারে না—এমনটাই দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
এই অবমাননাকর প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সনাতনী সমাজ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে যে, যতদিন না এই ধরনের প্যাকেজিং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হচ্ছে, ততদিন তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার কথাও জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদকারীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, সরকার ও প্রশাসনকে অবিলম্বে উপযুক্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনওভাবেই দেবদেবীর ছবি ব্যবহার করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সনাতনী সমাজের এক প্রতিনিধি বলেন,
“আমরা হিন্দু নাগরিক। আমাদের আরাধ্য দেবতার সম্মান রক্ষার জন্যই আজ এই প্রতিবাদ। যতদিন না এই অবমাননাকর ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে, ততদিন আমরা থেমে থাকব না।”
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন—
- সমীরেশ্বর মহারাজ, প্রতিষ্ঠাতা, বিশ্ব সেবাশ্রম সংঘের মাতৃ মন্দির
- স্বামী তন্ত্র দেবানন্দপুরী মহারাজ, প্রতিষ্ঠাতা, লেন্সডাউন মাতৃ মন্দির
- শ্রী সুদর্শন দাস, হিন্দুত্ববাদী যোদ্ধা ও সমাজসেবী
- মৌমিতা সরকার গাঙ্গুলী, হিন্দুত্ববাদী নেতা ও সমাজসেবিকা
শেষে সনাতনী সমাজের পক্ষ থেকে সমস্ত হিন্দু নাগরিকদের কাছে আবেদন জানানো হয়—এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে পাশে থেকে সহযোগিতা করার জন্য, যাতে দেবদেবীর মর্যাদা রক্ষা করা যায় এবং সনাতন ধর্ম যথাযোগ্য সম্মান লাভ করে।
