শিয়ালদহ ডিভিশনের অভিনব ব্যাজ ব্যবস্থা : দুই ভুয়ো টিটিই ধরা পড়ায় রেল নিরাপত্তায় নতুন দৃষ্টান্ত

Eastern Railway Kolkata Railway West Bengal

কোলকাতা : যাত্রী নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় এক অনন্য সাফল্যের নজির গড়েছে শিয়ালদহ ডিভিশন। ভুয়ো টিকিট পরীক্ষকদের (TTE) দৌরাত্ম্য রুখতে শিয়ালদহ ডিভিশনের অভিনব ও প্রথমবার চালু করা “বিশেষ ব্যাজ ব্যবস্থা” ইতিমধ্যেই সুফল দিতে শুরু করেছে। এই যুগান্তকারী উদ্যোগের পিছনে ছিলেন সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার (Sr. DCM) শ্রী জসরাম মীনা, যাঁর দূরদর্শিতায় এ ব্যবস্থা চালু হয়েছিল।

এই নতুন ব্যাজ ব্যবস্থার ফলে সম্প্রতি পরপর দুইজন ভুয়ো রেল কর্মচারীকে সনাক্ত ও আটক করা সম্ভব হয়েছে, যা যাত্রীদের মধ্যে সতর্কতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে ট্রেন নম্বর ৫৩১৭৫ (শিয়ালদহ – লালগোলা প্যাসেঞ্জার)-এ। এক ব্যক্তি নিজেকে টি টি ই বলে পরিচয় দেন যাত্রীরা তাঁর কাছে নতুন চালু হওয়া অফিসিয়াল ব্যাজ দেখতে চাইলে তিনি নার্ভাস হয়ে পড়েন ও সন্দেহজনক আচরণ করেন ও পরে নিজেকে ভিজিল্যান্স অফিসার পরিচয় দিয়ে যাত্রীদের হয়রানি করছিলেন। সজাগ যাত্রীরা সঙ্গে সঙ্গে ডিউটিতে থাকা রেল কর্মীদের খবর দেন। ওই ব্যক্তি, সঞ্জয় ঘোষাল, কে আরপিএফ পোস্ট কৃষ্ণনগর সিটি জংশন-এ হস্তান্তর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে, সে একজন ভুয়ো ভিজিল্যান্স অফিসার ও টি টি ই । তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

এরপর আরও একটি ঘটনা ঘটে লক্ষ্মীকান্তপুর স্টেশনে। ডিউটিতে থাকা কিছু টিটিই লক্ষ্য করেন, এক ব্যক্তি জোরপূর্বক যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিট চাইছেন এবং নিজেকে রেলকর্মী বলে দাবি করছেন। তাঁর অতি আত্মবিশ্বাসী আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁরা তাঁর অফিসিয়াল ব্যাজ দেখতে চান। ব্যাজ দেখাতে না পেরে ওই ব্যক্তি অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন এবং অবশেষে ধরা পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আরপিএফ/লক্ষ্মীকান্তপুর-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এই প্রসঙ্গে শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) রাজীব সাক্সেনা বলেন, “এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে আমাদের নেওয়া পদক্ষেপ কতটা কার্যকর। নতুন ব্যাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে সত্যিকারের টিটিইদের চিহ্নিত করা যেমন সহজ হয়েছে, তেমনই সাধারণ যাত্রীরাও এখন ভুয়োদের শনাক্ত করতে পারছেন।”

শিয়ালদহ ডিভিশন যাত্রীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দূরদর্শী নেতৃত্ব, প্রশাসনিক সতর্কতা ও যাত্রীদের সহযোগিতায় এই সফল পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *