কলকাতা : বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, হিংসা ও অশান্তির আবহে মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি করে অনুভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রীচৈতন্যদেবের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ-বিদেশে ‘পরা-বিদ্যাপীঠ’ (স্কুল) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে Gaudiya Mission।
সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই কলকাতার Bagbazar Gaudiya Mission, Nabadwip-সহ দেশের বিভিন্ন গৌড়ীয় মঠে ‘পরা-বিদ্যাপীঠ’ স্কুল চালু হয়েছে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে শুধুমাত্র প্রথাগত শিক্ষাই নয়, আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষা, আদর্শ চরিত্র গঠন এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এবার এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক স্তরে বিস্তৃত করতে লন্ডন, আমেরিকা, জার্মানি, অস্ট্রিয়া-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গৌড়ীয় মিশনের শাখা কেন্দ্রগুলিতে ‘পরা-বিদ্যাপীঠ’ স্কুল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গৌড়ীয় মিশনের আচার্য ও সভাপতি Bhakti Sundar Sannyasi Goswami Maharaj আগামী ১৪ মে কলকাতা থেকে চারটি দেশে সফরে রওনা দিচ্ছেন।
বাগবাজার গৌড়ীয় মিশনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান হিংসা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় থেকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে শ্রীচৈতন্যদেবের শিক্ষা ও আদর্শ। সেই ভাবনা থেকেই নীতি, আদর্শ ও সামাজিক মূল্যবোধ নির্ভর শিক্ষার প্রসারে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন দেশের স্থানীয় ভাষায় এই শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মধ্যেও এই আদর্শের বিস্তার ঘটানো সম্ভব হয়।
উল্লেখ্য, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সার্বজনীন শিক্ষার প্রসারে গৌড়ীয় মিশনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য Bhakti Siddhanta Sarasvati Goswami Prabhupada-এর উদ্যোগে ১৯৩৫ সালে ‘পরা-বিদ্যাপীঠ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে ১৯৬৬ সালে ভারত সরকার এই প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
এছাড়াও, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় Gaudiya Mission Paravidyapith Research Institute। এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য গৌড়ীয় বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও মানবতাবাদী দর্শনের প্রসার। এখানে সংস্কৃত ভাষা ও দর্শনের পাঠদানের পাশাপাশি ভারতীয় দর্শনের ওপর বিশেষ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে গৌড়ীয় নৃত্য, মৃদঙ্গবাদন ও কীর্তন শিক্ষার মতো পাঠক্রমও চালু
