কোলকাতা : দশ টাকা মূল্যের এই স্মারক ডাকটিকিটে মায়ের কোলে এক শিশুকে দেখানো হয়েছে। এটি প্রতিটি শিশুর, বিশেষত সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য, বেঁচে থাকার, বিকাশ লাভ করার এবং পূর্ণতা প্রাপ্তির লক্ষ্যে পৌঁছানোর অধিকারকে প্রাধান্য দেয়।
ভারত সরকারের নেতৃত্বে এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের এই সংস্থার সহায়তায় এদেশে শিশুদের অনেক উন্নতি হয়েছে। ১৯৪৯ সাল থেকে ইউনিসেফ এদেশে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলির সাথে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর জীবনের সমস্ত সুযোগের সদ্বব্যবহার নিশ্চিত করে চলেছে।

ডাকটিকিট প্রকাশের পর ডাক বিভাগের দিল্লি সার্কেলের চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল কর্নেল অখিলেশ পান্ডে ইউনিসেফের বিগত দিনগুলির কাজকর্ম এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা শিশুদের সহায়তা ও তাদের সুরক্ষায় এই সংস্থার কাজগুলির প্রশংসা করেন।
সহযোগিতা, মূল্যবোধ ভাগ করা এবং শিশুদের অধিকার ও ভবিষ্যতের প্রতি অঙ্গীকারের উদযাপন হিসেবে এই ডাকটিকিট প্রকাশকে বর্ণনা করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের রেসিডেন্ট কোঅর্ডিনেটর শম্বি শার্প। তিনি জানান যে রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্থাগুলি ভারত সরকারের সাথে একসাথে কাজের মধ্যে দিয়ে প্রতিটি শিশু যাতে তাদের স্বপ্নকে সার্থক করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে প্রচেষ্ট আছে।
ভারতে ইউনিসেফের প্রতিনিধি সিনথিয়া ম্যাকক্যাফ্রে বলেন এটি ভারতের শিশুদের জন্য একটি প্রতীকী মাইলফলক। “বিগত কয়েক দশকের সহযোগিতায় আমরা দেখেছি যে এদেশে শিশুদের জন্য কাজগুলি তাদের জীবনে প্রচুর উন্নতি সাধন করেছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার কমানো, সার্বিক টিকাদান, স্কুলে ভর্তির হার বাড়ানো, নিরাপদ স্যানিটেশন বা বিশুদ্ধ জল ব্যবহার – সব ক্ষেত্রেই ভারতের শিশুদের বিকাশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে,” ম্যাকক্যাফ্রে জানান।
তিনি বলেন, এছাড়াও ইউনিসেফ বেসরকারী ক্ষেত্র, সুশীল সমাজ, যুবক এবং শিশুদের সাথে একসাথে কাজ করে যাতে সমাজের সব ব্যবস্থা এবং পরিষেবাগুলি প্রতিটি শিশুকে তাদের অধিকার অর্জনে সহায়তা করে।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ভারতীয় ডাকবিভাগ ইউনিসেফের পঁচিশতম ও চল্লিশতম বর্ষ উদযাপনের সময় এবং শিশু অধিকার কনভেনশনের ত্রিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে চারটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে।
