বীরভূমে : আর হাতেগোনা কয়েকদিন পরেই শুরু হতে চলেছে জয়দেব মেলা, যেটি বীরভূম জেলার ইলামবাজার ব্লকের জয়দেব কেন্দুলি পঞ্চায়েতের অন্তর্গত অজয় নদের পাড়ে একটি গ্রাম রয়েছে যার নাম ‘জয়দেব কেন্দুলী’ সেই গ্রামে বসে। গঙ্গাসাগর মেলার পরে মকর সংক্রান্তিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মানুষের কাছে সবচেয়ে প্রিয় মেলা হচ্ছে জয়দেবের কেন্দুলী মেলা।
গত কয়েকদিন আগেই সম্পূর্ণ হয়েছে বীরভূমের অন্যতম মেলা পৌষ মেলা এবং সেই পৌষ মেলার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হতে চলেছে বীরভূম জেলার অন্যতম একটি জনপ্রিয় মেলা জয়দেবের কেন্দুলী মেলা। এবং সেই মেলার প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে বীরভূম জেলা প্রশাসন।
প্রত্যেক বছরের মতো এই মেলা শুরু হবে মকর সংক্রান্তির আগের দিন অর্থাৎ আগামী বাংলা সনের ২৮ শে পৌষ এবং ইংরেজি সালের ১৩- ই জানুয়ারি এই মেলার উদ্বোধন হতে চলেছে। এবং এই মেলা চলবে বাংলা সনের ২ রা মাঘ এবং ইংরেজি সালের জানুয়ারি মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত । মূলত চারদিনের এই মেলা।
বীরভূম জেলার এই জনপ্রিয় মেলার পিছনে অনেক ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে। শ্যাম সখা স্থায়ী আশ্রম এর অন্যতম সদস্য শ্যামসখা thebengal.in newsপোর্টাল কে জানিয়েছে জয়দেব কেন্দুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কবি জয়দেব। তিনি সেই সময় অর্থাৎ দ্বাদশ শ তব্দীতে রাজা লক্ষণ সেনের সভাকবি করেছিলেন। এ ছাড়াও তিনি গীতগোবিন্দ রচনা করেছিলেন। তার উদ্যোগেই জয়দেব কেন্দুলী গ্রামটি সংস্কৃতির জগতের একটা প্রাণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। এছাড়াও ঐ সময়ই ওই গ্রামে বিভিন্ন ধর্মের আলোচনার পাশাপাশি ধর্মচর্চার একটা অন্যতম পিঠস্থান হিসাবে পরিচিত লাভ করেছিল। শোনা যায় এখানে একাধিক মঠ বানানো হয়েছিল।
এই মেলাতে প্রত্যেক বছর ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের লক্ষ লক্ষ পুর্ণার্থী,হাজার হাজার বাউল শিল্পী,ফকির জড়ো হয়। শতাব্দি প্রাচীন এই মেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এখানে আসেন ধর্ম প্রচারের জন্য এবং ধর্ম নিয়ে আলোচনা করার জন্য।
এই মেলায় চার দিন ধরে বাউল,কীর্তন এবং সুফি গানের আসর দেখতে ভিড় জমান দেশ বিদেশ থেকে আগত অসংখ্য পূর্ণার্থীরা। এই মেলাতে বিভিন্ন আখড়া থাকে যেখানে দুবেলা ভোগ এবং এর পাশাপাশি এই আখড়াগুলি দুর দুরন্ত থেকে আগত পূর্ণার্থীদের থাকবার একমাত্র আশ্রয় স্থল হয়ে ওঠে।
এই ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় মেলা নিয়ে গত ইংরেজি মাসের ১৪ই ডিসেম্বর জয়দেব কেন্দুলি গ্রাম পঞ্চায়েতে জয়দেব মেলা নিয়ে বীরভূম জেলা প্রশাসন প্রথম পর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন করেছেন এবং ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলাশাসক বিধান রায়, রাজ্য সরকারের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, জেলা সুপার রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায়, বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ, উপস্থিত ছিলেন ইলামবাজার ব্লকের বিডিও অনির্বাণ মজুমদার সহ অনেকেই।
ওই দিনের বৈঠকে জয়দেব মেলা প্রসঙ্গে বীরভূম জেলা শাসক বিধান রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান জয়দেব মেলা বিগত বছর গুলিতে যেভাবে পালিত হয়েছে ঠিক সেভাবে পালিত হবে। তিনি আরো বলেন ১৩ তারিখ থেকে পূর্ণার্থীরা আসবেন স্নানের জন্য এবং সেই মত আমরা পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে আমাদের হেলথ ডিপার্টমেন্ট, সাধারণ প্রশাসন , ফায়ার ব্রিগেড এবং এক কথায় সবার সহযোগে এই মেলা সংগঠিত হবে এবং তিনি আরো বলেন গতবছর যেভাবে আমরা মেলাটি সফল ভাবে সম্পন্ন করেছিলাম ঠিক সেই মতো এ বছরও মেলা টিকে সুসম্পন্ন করব।
